
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি তালিম বৈঠক নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের পর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যার ফলে তরু মুন্সিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
গুরুতর অবস্থায়, তরু মুন্সিকে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতেই তার মৃত্যু ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে, তরু মুন্সির ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সি, ভাই হোসেন আলী, ভাতিজা শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের সকলকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সির অভিযোগ, জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিমের জন্য জড়ো হলে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এ হামলায় জামায়াতের ওহিদুল, তাবিবুর, আব্দুল হামিদ নিলু, মনিরুল, নাসির ও প্লাবন অংশ নেয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংঘর্ষের পর জামায়াতের লোকজন গান্না ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় এবং বিএনপি নেতা শাহজাহান, ইলিয়াস হোসেন, আবুল কালাম ও নিহত তরু মুন্সির বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, যা মারাত্মক ক্ষতির সৃষ্টি করে।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা ইফতার পার্টির আয়োজন করছিলেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে তাদেরও পাঁচ থেকে ছয়জন কর্মী আহত হয়েছেন।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।